নতুন ফ্ল্যাটের চাবি হাতে পাওয়ার পর প্রায় সবার প্রথম প্রশ্ন: ইন্টেরিয়র করতে কত খরচ হবে? ঢাকায় একটি ফ্ল্যাটের ইন্টেরিয়র ডিজাইন খরচ সাধারণত প্রতি বর্গফুট ৳৬০০ থেকে শুরু করে ৳৫,০০০-এর বেশি পর্যন্ত হতে পারে। খরচ কোথায় দাঁড়াবে তা নির্ভর করে চারটি বিষয়ের ওপর: কোন প্যাকেজ বেছে নিচ্ছেন, কতটুকু ফার্নিচার কাস্টম তৈরি হবে, কোন ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার হবে, আর ফ্ল্যাটের আয়তন কত।
এই গাইডে ২০২৬ সালে ঢাকায় ফ্ল্যাট ইন্টেরিয়রের খরচ প্যাকেজ অনুযায়ী ভেঙে দেখানো হলো, যাতে কোনো ডিজাইনারের সাথে কথা বলার আগেই আপনি একটি বাস্তব বাজেট ঠিক করতে পারেন।
ঢাকায় ফ্ল্যাট ইন্টেরিয়র ডিজাইন খরচ: প্রতি বর্গফুট (২০২৬)
নিচের হিসাবে ডিজাইন, ম্যাটেরিয়াল, ফার্নিচার ও কাজ বাস্তবায়ন সবকিছু ধরা হয়েছে।
| প্যাকেজ | প্রতি বর্গফুট | ১,২০০ বর্গফুট ফ্ল্যাট | ১,৮০০ বর্গফুট ফ্ল্যাট |
|---|---|---|---|
| বেসিক | ৳৬০০–৳৯০০ | ৳৭.২–১০.৮ লাখ | ৳১০.৮–১৬.২ লাখ |
| মিড-রেঞ্জ | ৳১,২০০–৳২,০০০ | ৳১৪.৪–২৪ লাখ | ৳২১.৬–৩৬ লাখ |
| প্রিমিয়াম | ৳২,৫০০–৳৪,০০০ | ৳৩০–৪৮ লাখ | ৳৪৫–৭২ লাখ |
| লাক্সারি / বেসপোক | ৳৫,০০০+ | ৳৬০ লাখ+ | ৳৯০ লাখ+ |
কোন প্যাকেজে কী থাকে
- বেসিক: রং ও সাধারণ ওয়াল ট্রিটমেন্ট, ল্যামিনেট বোর্ডের কিচেন, সাধারণ ওয়ারড্রোব, স্ট্যান্ডার্ড লাইটিং ও রেডিমেড ফার্নিচার। কম বাজেটে প্রথম বাসার জন্য উপযুক্ত।
- মিড-রেঞ্জ: ডিজাইন করা ফলস সিলিং ও লেয়ারড লাইটিং, কাস্টম কিচেন, বিল্ট-ইন ওয়ারড্রোব ও টিভি ওয়াল, ফিচার ওয়াল, আর কাজ শুরুর আগে 3D ভিজ্যুয়ালাইজেশন। ঢাকায় নিজের ফ্ল্যাটে সবচেয়ে বেশি বেছে নেওয়া হয় এই প্যাকেজ।
- প্রিমিয়াম: ভিনিয়ার ও সলিড উডের কাজ, স্টোন বা ইঞ্জিনিয়ারড ফ্লোরিং, ইমপোর্টেড ফিটিংস, কাস্টম ফার্নিচার, পর্দা ও ডেকর, আর পূর্ণ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট। গুলশান, বনানী, বারিধারা বা বসুন্ধরার ফ্ল্যাটে বেশি দেখা যায়।
- লাক্সারি / বেসপোক: প্রতিটি জিনিস স্পেসের জন্য আলাদা করে ডিজাইন করা, ইমপোর্টেড ম্যাটেরিয়াল, স্মার্ট-হোম সিস্টেম ও বিশেষ লাইটিং।
বাজেট সাধারণত কোথায় কত যায়
- কিচেন: ২০–২৫%
- বিল্ট-ইন ফার্নিচার (ওয়ারড্রোব, টিভি ইউনিট, স্টোরেজ): ২০–৩০%
- সিলিং ও লাইটিং: ১০–১৫%
- দেয়াল ও ফ্লোরিং: ১০–১৫%
- লুজ ফার্নিচার ও ডেকর: ১৫–২৫%
- ডিজাইন ফি: সাধারণত প্রজেক্টের ৮–১৫%, প্যাকেজে অনেক সময় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
খরচ কমানোর ৫টি উপায়
- কাজ শুরুর আগেই পুরো 3D ডিজাইন অনুমোদন করুন, যাতে সাইটে কিছু ভেঙে আবার করতে না হয়।
- প্রতিদিন যা ব্যবহার করেন (কিচেন, ওয়ারড্রোব) সেখানে খরচ করুন; ডেকরে সাশ্রয় করুন, ওটা পরে সহজেই বদলানো যায়।
- ভেতরের অংশে ভালো মানের দেশি বোর্ড ও হার্ডওয়্যার ব্যবহার করুন, প্রিমিয়াম ফিনিশ রাখুন চোখে পড়ার জায়গায়।
- এক ধাপে কাজ শেষ করুন। ভাগে ভাগে করলে মোট খরচ বাড়ে।
- আইটেম-ভিত্তিক কোটেশন নিন। শুধু একটি মোট দাম দিলে ডিজাইনারদের মধ্যে তুলনা করা যায় না।
কত সময় লাগে?
১,২০০–১,৮০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটে সাধারণত ডিজাইন ও অনুমোদনে ২–৪ সপ্তাহ এবং সাইটের কাজে ৬–১০ সপ্তাহ লাগে। ইমপোর্টেড ম্যাটেরিয়াল থাকলে প্রিমিয়াম প্রজেক্টে ৩–৫ মাস লাগতে পারে।
আপনার ফ্ল্যাটের সঠিক খরচ জানতে
বর্গফুট-ভিত্তিক হিসাব শুধু শুরু। সঠিক খরচের জন্য সাইট ভিজিট, মাপজোখ আর কাজের পরিধি ঠিক করা দরকার। হাউস ডি আর্ক ২০০৮ সাল থেকে বনানীর স্টুডিও থেকে বাসা, অফিস ও রেস্টুরেন্টের ডিজাইন ও কাজ একসাথে করে আসছে। ঢাকায় একজন অভিজ্ঞ ইন্টেরিয়র ডিজাইনার খুঁজলে আমাদের অনলাইন কস্ট এস্টিমেটর থেকে দ্রুত একটি হিসাব নিতে পারেন। আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন ইংরেজিতে ফ্ল্যাট ইন্টেরিয়র খরচের পূর্ণ গাইড এবং বাংলাদেশের সেরা ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোম্পানি বেছে নেওয়ার উপায়।
সাধারণ প্রশ্ন
১,২০০ বর্গফুট ফ্ল্যাটের ইন্টেরিয়রে কত খরচ হয়?
বেসিক ফিনিশে প্রায় ৳৭.২ লাখ থেকে, মিড-রেঞ্জে ৳১৪.৪–২৪ লাখ, আর প্রিমিয়ামে ৳৩০–৪৮ লাখ, ফার্নিচার ও কাজসহ।
ডিজাইন ফি কি আলাদা দিতে হয়?
প্যাকেজ প্রাইসে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত থাকে। আলাদা হলে প্রজেক্টের ৮–১৫% ধরা হয়। লিখিতভাবে নিশ্চিত করে নিন।
শুরুতে কত টাকা অগ্রিম দিতে হয়?
ঢাকার বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান কাজ শুরুর জন্য কিছু অগ্রিম নেয়, বাকিটা কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে। কাজ শুরুর আগে পুরো টাকা দেবেন না।